জ্বালানি সংকটে চট্টগ্রামে ১০ বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১৮-০৪-২০২৬ ০১:৩৩:৪২ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৮-০৪-২০২৬ ০১:৩৩:৪২ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানি সংকটের কবলে পড়ে চট্টগ্রামের ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে ১০টি বন্ধ রয়েছে। এর ফলে বন্দর নগরীসহ পুরো জেলায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। এতে ভ্যাপসা গরমে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা।
চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এর তথ্যমতে, ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে ১০টি কেন্দ্র উৎপাদনের বাইরে রয়েছে। এর মধ্যে এনলিমা (১১৬ মেগাওয়াট), জুডিয়াক (৫৪ মেগাওয়াট), জুলধা-২ ও ৩ (প্রতিটি ১০০ মেগাওয়াট), রাউজান ১ ও ২ (প্রতিটি ২১০ মেগাওয়াট) এবং কক্সবাজারের উইন্ড প্ল্যান্ট উল্লেখযোগ্য।
পিডিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বেলা ১১টায় ১১টি ও সন্ধ্যা ৭টায় ১৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ছিল শূন্যের কোঠায়। এর মধ্যে ১০ বিদ্যুৎকেন্দ্রে সকাল-সন্ধ্যা উৎপাদনের বাইরে ছিল। এর মধ্যে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র মাতারবাড়ী কোল পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে সকালে কিছু উৎপাদন মিললেও সন্ধ্যায় তা শূন্যে নেমে আসে। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে সচল রয়েছে মাত্র দুটি।
এমতাবস্থায় সরকারি সংস্থাটি জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ২১১ দশমিক ২০ মেগাওয়াট। কিন্তু উৎপাদন হয় ১ হাজার ৩৫৩ দশমিক ৫০ মেগাওয়াট। তবে এর মধ্যে ১৪২ দশমিক ৩০ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করায় স্থানীয়ভাবে ৬৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়। এর আগে বেলা ১১টায় চাহিদা ছিল ১ হাজার ২৯১ দশমিক ৬০ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় ১ হাজার ২০০ দশমিক ৭০ মেগাওয়াট। তখন লোডশেডিংয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯০ দশমিক ৯০ মেগাওয়াট।
বর্তমানে চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ সরবরাহ মূলত বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট (৬১২ মেগাওয়াট), শিকলবাহা (২১৮ মেগাওয়াট) এবং মিরসরাইয়ের বি-আর পাওয়ার (১৫০ মেগাওয়াট) কেন্দ্রের ওপর টিকে আছে।
এদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে আসায় নগরীর বাসিন্দারা দিনে ৪-৫ ঘণ্টা এবং উপজেলা পর্যায়ে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকছেন। ফলে ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হওয়ার পাশাপাশি পানি সংকটও দেখা দিয়েছে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এইচএইচ/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স